দাঁতের প্লাক ও টার্টার: কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার

দাঁতের প্লাক ও টার্টার আমাদের মুখগহ্বরের অন্যতম সাধারণ সমস্যা। এগুলো দাঁতের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি মাড়ি ও দাঁতের অন্যান্য জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা প্লাক ও টার্টারের কারণ, এর ক্ষতিকর প্রভাব, এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।





প্লাক ও টার্টার কি?

প্লাক: প্লাক হলো এক প্রকার নরম, পাতলা স্তর যা দাঁতের উপর গঠন হয়। এটি মূলত খাবারের অবশিষ্টাংশ, ব্যাকটেরিয়া এবং লালা মিলে তৈরি হয়। প্রতিদিন সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে এটি গঠন হয়।

টার্টার: টার্টার হলো প্লাকের শক্ত রূপ। এটি দাঁতের উপরে জমে শক্ত হয়ে যায় এবং দাঁতের রঙ বদলে দেয়। টার্টার জমলে এটি সাধারণ ব্রাশিং বা ফ্লসিংয়ের মাধ্যমে সরানো যায় না এবং ডেন্টিস্টের সাহায্য প্রয়োজন হয়।


প্লাক ও টার্টারের কারণ

১. অপর্যাপ্ত মুখের স্বাস্থ্য চর্চা:

  • প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস না করা।
  • ভুল টেকনিক বা নিম্নমানের টুথপেস্ট ব্যবহার।

২. খাবারের অভ্যাস:

  • মিষ্টি ও শর্করা সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া।
  • স্ন্যাকস বা নরম পানীয় পান করার পর মুখ পরিষ্কার না করা।

৩. মুখের শুষ্কতা:

  • মুখের শুষ্কতা লালার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা প্লাক গঠনের সম্ভাবনা বাড়ায়।

৪. ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য:

  • ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের ফলে প্লাক দ্রুত টার্টারে পরিণত হয়।

৫. মেডিকেল কন্ডিশন:

  • ডায়াবেটিস বা মুখের কিছু সংক্রমণ প্লাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্লাক ও টার্টারের ক্ষতিকর প্রভাব

১. মাড়ির রোগ (জিনজিভাইটিস): প্লাক ও টার্টার জমলে মাড়ি লালচে হয়ে ফুলে যায় এবং রক্তপাত হতে পারে।

২. পিরিওডোন্টাইটিস: এটি মাড়ির গুরুতর সংক্রমণ, যা হাড় এবং টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে দাঁত পড়ে যেতে পারে।

৩. দাঁতের ক্যাভিটি: প্লাকের ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ক্যাভিটি তৈরি করে।

৪. মুখের দুর্গন্ধ: প্লাক ও টার্টারের কারণে মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে যায়, যা মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।

৫. দাঁতের রঙ পরিবর্তন: টার্টার জমে দাঁতের উপর একটি হলুদ বা বাদামী স্তর তৈরি করে, যা দাঁতের সৌন্দর্য নষ্ট করে।


প্লাক ও টার্টার প্রতিরোধের উপায়

১. সঠিক ব্রাশিং টেকনিক:

  • প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন।
  • নরম ব্রাশ ও ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

২. ফ্লসিং:

  • প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা সরান।

৩. মাউথওয়াশ ব্যবহার:

  • অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করে মুখের জীবাণু ধ্বংস করুন।

৪. খাবারের পর মুখ পরিষ্কার করা:

  • প্রতিবার খাবারের পর পানি দিয়ে কুলকুচি করুন।
  • চিনি বা শর্করা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

৫. পেশাদার ডেন্টাল ক্লিনিং:

  • ছয় মাস পরপর ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত পরিষ্কার করান। এটি টার্টার সরানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

৬. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:

  • তাজা ফল, শাকসবজি এবং চিবানোর মতো খাবার খেলে লালা উৎপন্ন হয়, যা প্লাক দূর করতে সাহায্য করে।

৭. ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য বর্জন:

  • ধূমপান ও তামাক ব্যবহার বন্ধ করুন, কারণ এটি প্লাক ও টার্টারের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্লাক ও টার্টার দূর করতে ঘরোয়া উপায়

১. লবণ পানি:

  • এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এটি জীবাণু ধ্বংস করে।

২. বেকিং সোডা:

  • সামান্য বেকিং সোডা ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন।

৩. নারিকেল তেল দিয়ে অয়েল পুলিং:

  • মুখে এক চা চামচ নারিকেল তেল নিয়ে ১০ মিনিট ধরে কুলকুচি করুন। এটি টার্টার দূর করতে সহায়ক।

উপসংহার

প্লাক ও টার্টার দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। উপরের পরামর্শগুলো মেনে চললে আপনি সহজেই আপনার দাঁত সুস্থ ও পরিষ্কার রাখতে পারবেন। যদি সমস্যা গুরুতর হয়, তাহলে দেরি না করে ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হন।

যোগাযোগের জন্য: এম,আই ডেন্টাল কেয়ার
ঠিকানা: ঢাকা, কমলাপুর 
মোবাইল: 01650198767
Facebook Page: https://www.facebook.com/Midentalbd
Website: https://www.midentalcare.net/

Post a Comment

Previous Post Next Post